ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

nibandhaসম্বচ্ছরি দুর্গাপূজা

কুষাণরাজ কনিষ্কের একটি শিলমোহরের একদিকে পুরুষমূর্তি ও উল্টোদিকে নারীমূর্তি খোদাই করা ছিল। সেই নারীমূর্তি নাকি ব্যাবিলনের গ্রাম্যদেবী “ননা”। এই ব্যাবিলনীয় দেবমাতা ননা বা নিনা ছিলেন সিংহাসীনা ও চতুর্ভুজা। গ্রিসের শস্যদেবী “ডিমিটর”কে বলা হত ” the Earth বা Corn-Mother”। প্রাচীন গ্রিকমাতা রুহী ও রোমানদেবী সিবিলি ছিলেন ভূমি ও প্রকৃতির দেবী। এছাড়া মিশরের আইসিস ও গ্রীসের সিরিস হলেন জনপ্রিয় দেবী। এশিয়া মাইনরের আনাতোশিয়ার ফ্রিজিওজাতিরা খ্রীষ্টপূর্ব অষ্টম শতাব্দীতে পাহাড়ের গুহার মধ্যে এক সিংহবাহিনী দেবীর পুজো করত। তাকে তারা “গদান মা” বলত। ভাষাচার্য সুকুমার সেনের মতে এই “গদান মা” হলেন ধরিত্রী দেবী বা বসুন্ধরা ।

আমাদের দেশের বসন্তকালে বাসন্তী বা দুর্গাপূজার মত পাশ্চাত্যে ইস্তারাদেবীর পূজা হয়। পন্ডিতেরা আমাদের অন্নপূর্ণা ও দুর্গার সাথে মিশরের আইসিস ও গ্রীসের সিরিসের সাদৃশ্য খুঁজে পান। ইস্তারাদেবীর রূপটি অনেকাংশেই আমাদের দুর্গার মত। তিনিও সিংহারূঢ়া ও অসুর নিধনে মগ্ন। এই ইস্তারাদেবীর উত্সব সেখানে হয় বসন্তকালে ইষ্টারের সময়। মন্ডি থার্সডে , গুডফ্রাইডে, হোলি স্যাটারডে, ইষ্টার সানডে ও ইষ্টার মানডে এই পাঁচদিন ধরে আমাদের দুর্গাপুজোর মত উত্সব চলে। আমাদের দুর্গাদেবীও সেই অর্থে গ্রীসের শস্যদেবীর মত। শস্যাধিষ্ঠাত্রী দেবীর আরেক নাম শাকম্ভরী। একবার দুর্ভিক্ষের সময় দেবী দুর্গা তাঁর অর্থাত পৃথিবীর সমস্ত উত্পন্ন শাক দিয়ে জগত পালন করেছিলেন। শাককে এখানে সমস্ত প্রকার শস্যের প্রতিনিধি বলা হযেছে। দেবী শাকম্ভরীর আরেক প্রকাশ হল অন্নপূর্ণা বা অন্নদা। রায়গুণাকর ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গলে এর উল্লেখ পাওয়া যায়। সবুজ শাকসব্জীর রঙে ভূষিতা বলেই দেবী শাকম্ভরী নীলোত্পল বর্ণা। পশ্চিমবাংলার কাটোয়া থেকে আট মাইল দূরে মঙ্গলকোট থানার অন্তর্গত মাজিগ্রামে শাকম্ভরী দেবীর পুজো হয়। এ যেন স্থান-কাল-পাত্রভেদে এক‌ই অঙ্গে বহুরূপী নারীমূর্তি।
স্যার ফ্রেজার তাঁর Adonis গ্রন্থে প্রাচ্যের এক বৃষভবাহন দেবতা ও সিংহবাহিনীদেবীর উল্লেখ করেছেন। তিনি শিব বা দুর্গার নাম উল্লেখ করেননি কিন্তু তারাই যে আদতে আমাদের হর-গৌরী তা একেবারে সুস্পষ্ট। A short history of religion গ্রন্থে কেলেট সাহেব মুক্তকন্ঠে প্রকাশ করেছেন শস্যাধিষ্ঠাত্রী দেবতা সর্বপ্রথম প্রাচ্যেই বিকাশ লাভ করেছিলেন। তাঁর ব‌ইতে বোনদিয়া (Bona Dea) নামক এক দেবীর উল্লেখ পাওয়া যায় যিনি a deity of fertility বলে প্রচলিত এবং এই বোনদিয়া আমাদের সুন্দরবনের বনদুর্গা বা বনবিবি যিনি আমাদের শাকম্ভরী দুর্গা সে কথা বুঝে নিতে অসুবিধা হয়না । সুন্দরবনে বনবিবি ও দক্ষিণরায়ের মন্দিরে পেন্নাম ঠুকে যেতে হয়, এটাই রীতি । জঙ্গলের রাজা হিসেবে আদি অনন্তকাল ধরে বাঘকে মানুষ সমীহ করে। সুন্দরবনের এই ব্যাঘ্র দেবতা হলেন দক্ষিণ রায় যাঁকে পুজো করে মানুষ তাঁকে প্রতিনিয়ত তুষ্ট রাখে। উত্তরবঙ্গের তরাই জঙ্গলে যিনি সোনারায় দক্ষিণবঙ্গে তিনি দক্ষিণরায়। তাঁর পুজোর সাথে সাথে বাঘের আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য বনদেবী বনবিবির পুজো করে মানুষ। বাউল, ম‌উল, জেলে সকলে জঙ্গলে প্রবেশের আগে পুজো দেয় বনবিবির মন্দিরে। সুন্দরবনের সংস্কৃতির সাথে এই দুইয়ের পুজো এখানকার সাথে ওতপ্রতোভাবে জড়িয়ে আছে। বনবিবি শক্তিরূপিণী মাদুর্গার আরেক রূপ। হিন্দু-মুসলমান নির্বিশেষে তাঁকে এখানে স্মরণ করে।
দুর্গাপুজোর সপ্তমীর ভোরে মহা সমারোহে ঢাকের বাদ্যির সাথে সাথে গঙ্গায় বা নদীতে “কলা-বৌ” স্নান করানোর আয়োজন দেখি । স্নান করিয়ে সেই কলাবৌটিকে নতুন লালপাড় শাড়ি পরিয়ে মাদুর্গার পাশে রাখা হয় এবং পুজোর পাঁচটাদিন পুজো করা হয় ঐ কলাবৌটিকে । বিসর্জনের দিন প্রতিমার সাথে তাকেও বিসর্জন দেওয়া হয় । ছোটবেলায় বলা হত ওটি গণেশের কলা-বৌ । আদতে গণেশ কিন্তু বিয়েই করেন নি । মা দুর্গাকেই ঐ রূপে পুজো করা হয় । আমাদের কৃষিপ্রধান দেশে এই কলাবৌটির পুজোটি এই প্রসঙ্গে যথেষ্ট তাতপর্যপূর্ণ । বেদে আছে ভূমি হল মাতা, মৃত্শক্তি যা ধারণ করে জীবনদায়িনী উদ্ভিদকে । এই কলাবৌকে বলা হয় নবপত্রিকা । সমষ্টিগত ভাবে মাদুর্গা বা মহাশক্তির প্রতিনিধি ।

শরতঋতুতে আবাহন হয় বলে দেবীর আরেক নাম শারদীয়া। দুর্গাপূজার পর বিজয়াদশমীতে অপরাজিতা পূজা হয় সেই অপরাজিতা এবং দুর্গা এক ও অভিন্ন। এই অপরাজিতা দেবী দুর্গার চৌষট্টি যোগিনীদের মধ্যে অন্যতমা। মত্স্যপুরাণে এই অপরাজিতাকে মায়ানুচরী বলা হয়েছে। বামনপুরাণে ইনি গৌতম মুনি ও অহল্যার চারকন্যা জয়া, বিজয়া, জয়ন্তী ও অপরাজিতা। সেখানে আবার এই চারভগ্নী শিবজায়া সতীর সহচরী সখী রূপে অভিহিত। দেবী অপরাজিতা প্রণাম মন্ত্রে রুদ্রলতা নাম পাওয়া যায়। তাই তিনিই যে শিবসঙ্গিনী দুর্গা সে বিষয়ে কোনো দ্বিমত নেই । দেবী অপরাজিতা ও শাকম্ভরী শাকসব্জী, উদ্ভিদ প্রভৃতির জন্য পূজিতা বলে Vegetable-Spirit নামে পরিচিত।
এছাড়া বাংলাদেশের সুজলা সুফলা শস্যশ্যামলা মাটির বুকে শক্তির আরাধ্যারূপে পূজিতা দেবী শীতলা, মনসা, বাশুলি, ষষ্ঠী,বিপত্তারিণী, মঙ্গলচন্ডী সকলেই মা দুর্গার অংশ বিশেষ।
এমন কি অঘ্রাণ মাসে নতুন ধান ওঠবার ঠিক আগে এখনো শহরে ও গ্রামে ইতুপুজোর চল আছে। ইতু শব্দটি ইঁতু> মিতু> মিত্র শব্দের প্রকারভেদ এবং সূর্যপূজা হিসেবে প্রচলিত। বসুন্ধরাকে শস্যশালিনী করবার আগাম প্রয়াস। আবারো সেই অমিত শক্তিস্বরূপ সূর্যের জন্য পুজো vegetation spirit এর পূজা।
মহাযানী বৌদ্ধধর্মের অবলোকিতেশ্বর কোয়াননের মধ্যে একটি দেবীমূর্তির পূজা হয়। জাপানীভাষায় এই দেবীর নাম “চনষ্টী” । এই চনষ্টী শব্দটি সংস্কৃত শব্দ চন্ডীর অনুরূপ। সুকুমার সেনের মতে চন্ডী শব্দটি এসেছে চান্ডী থেকে। চান্ডী একজন অনার্যা দেবী, যিনি ওঁরাও, বীর, হোড়দের দ্বারা পূজিতা।

অতএব ভারতবর্ষ সহ সারা বিশ্বের আনাচেকানাচে দেবীপুজোর যে একটা চল আছে সেটা বেশ বোঝা যায়। এবার আসি বাংলার ব্রতকথায় দেবীপূজার হিড়িক প্রসঙ্গে। আজকের নারীবাদের ধ্বজা উড়িয়ে যখন আমরা একটা ভয়ানক হুজুগে মেতেছি তখন মনে হয়, এ আর নতুন কি? আমাদের বাংলাদেশে বারোমাসের তেরোপার্বণে সবপুজোই তো প্রায় নারীদের উত্সর্গ করে। লোকসাহিত্যের আঙিনায় কান পাতলে শুনি চন্ডীমঙ্গল, শীতলামঙ্গল, অন্নদামঙ্গলের গল্প। সব কাহিনীতেই দেবীমাহাত্ম্যের বর্ণনা। সাহিত্যের পাতায় পাতায় বারেবারে উঠে আসে নারীমুক্তির প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত। বঙ্কিমচন্দ্রের আনন্দমঠে …”বাহুতে তুমি মা শক্তি হৃদয়ে তুমি মা ভক্তি”..সেখানে দেশমাতৃকা ত্রিকালদর্শিনী মহাশক্তি। রবীন্দ্রনাথের দেশাত্মবোধক গানেও সেই প্রসঙ্গ উঠে এসেছে বারেবারে।

“ডান হাতে তার খড়্গ জ্বলে ললাট করে শঙ্কা হরণ”, “তুমি এই অপরূপ রূপে বাহির হলে জননী” কিম্বা “তোমাতে বিশ্বমায়ের আঁচল পাতা” এই বাক্যগুলিতে কবির দেশমাতার প্রতি স্বতঃস্ফূর্ত শ্রদ্ধা মূর্ত হতে দেখি। কাজী নজরুল ইসলামও বলে উঠেছেন….মা গো চিন্ময়ী রূপ ধরে আয় অথবা জাগো যোগমায়া, জাগো মৃন্ময়ী, চিন্ময়ীরূপে জাগো । ঋষি বঙ্কিমচন্দ্র গর্জে উঠে দেবীকে আহ্বান জানিয়েছেন তাঁর সুচারু লেখনীতে….বর্ষে বর্ষে এসো যাও মাগো এই বাংলা ধামে….

চৈত্রমাসে বাসন্তী ওরফে অশোকা ওরফে দুর্গাপুজো পালনের রীতি। আমাদের দেশে শীতের শেষে, চৈত্রমাসের শুক্লপক্ষে মাদুর্গার পুজোকে বাসন্তীপুজো বলে। শাস্ত্রে শরত ও বসন্ত এই দুই ঋতুকে বলা হয় “যমদংষ্ট্রা” অর্থাত এই দুই ঋতুতে মানুষ দুরারোগ্য ব্যাধি ভোগ করে মৃত্যুমুখে পতিত হয়। শরত এবং বসন্ত এই দুই ঋতুর আগমনেই ভারতবর্ষের মত গ্রীষ্মপ্রধান দেশে ঋতু পরিবর্তনের হাওয়া লাগে। ফলে রোগের প্রকোপ বাড়ে। দুর্গা দুর্গতিনাশিনী তাই আবির্ভূতা হন এই দুই সময়ে।
জ্যৈষ্ঠ্যমাসের জয়মঙ্গলবার মঙ্গলচন্ডীর ব্রত করে কুমারী-মা-বৌয়েরা । বিশ্বাস জন্মায় মা মঙ্গলচন্ডী ওরফে দুর্গা-ভগবতী-কালীমায়ের ওপর।
মা বিপদতারিণী আষাঢ় মাসে পূজিতা হন। তিনিও মা দুর্গা বা কালীর রূপ। ঈশ্বরে বিশ্বাস আর সেই বিশ্বাসের ভেলায় চেপে সংসারসমুদ্রের ঝড় সামলাই আমরাও । অযথা তর্কে না গিয়ে অনেকেই সংসারের বিপদমোচনের জন্য এই ব্রত করে থাকি ।
দুর্গাপুজোর ঠিক দু’মাস আগে শ্রাবণমাসের শুক্লপক্ষের তিথিতে ধুমধাম করে হয় লোটনষষ্ঠী। আর ভাদ্রের শুক্ল পক্ষে হয় চাপড়া ষষ্ঠী। ব্রতের গল্পগুলি অনুধাবন করলে জানা যাবে সেই নারীদেবতার সাহায্যেই মুক্তিলাভের কথা ।
অঘ্রাণ মাসের শুক্লপক্ষের মঙ্গলবারে মেয়েরা কুলুই চন্ডীর ব্রত করে। আবারো চন্ডী অর্থাত দুর্গার পুজো।

বৈশাখমাসে কোনো শুভকাজে হাত দেবার আগে বাংলার মানুষ খুব ধুম্মধাম করে অক্ষয় তৃতীয়া পালন করে। তার পেছনে যে কাহিনীটি রয়েছে সেখানেও দেখি নারীর দ্বারা পুরুষের স্বর্গবাসের ঘটনা। অর্থাত নারীর পুণ্যে পুরুষের পুণ্য। আবারো নারীশক্তির জয়।
বাংলার ঘরে ঘরে আরেকটি জনপ্রিয় ব্রতের চল আছে যার নাম জামাইষষ্ঠী । জামাইষষ্ঠীর আরেক নাম অরণ্য ষষ্ঠী। এই জামাইষষ্ঠীর দিনে বিন্ধ্যবাসিনীদেবীর পুজো হয়। বিন্ধ্যবাসিনী হলেন যশোদার গর্ভের কন্যা যিনি কৃষ্ণের মা দেবকীর কাছে ছিলেন। তাকে বধ করতে গিয়ে কংস শুনেছিলেন সেই দৈববাণী। মাটিতে আছাড় দিয়ে মেরে ফেলতে গেলে কন্যাটি উপরে উঠে গিয়ে দৈববাণী করেছিল কংসকে” তোমারে বধিবে যে গোকুলে বাড়িছে সে” এই বলে সেই কন্যা অন্তর্হিত হয়েছিল। তাঁকে আজ বিন্ধ্যবাসিনী মা দুর্গারূপে ঐ দিনটিতে পুজো করা হয়। অতএব বারোমাসে তেরো পার্বণে আবারো দেবীপুজোর সমারোহ।
অঘ্রাণমাসের প্রতি রবিবারে ইতুদেবীর পুজোতেও আবারো কন্যাশ্রীটিকে ঘিরে গল্প আবার কন্যাশ্রীটিকে ঘিরেই পুরুষের মুক্তি আর ইতুদেবী তথা মাদুর্গার মাহাত্ম্য প্রতিষ্ঠা।
মনসামঙ্গল ও অন্নদামঙ্গলের পাশাপাশি শীতলামঙ্গলেও আছে শীতলাদেবীর মাহাত্ম্যকীর্তণ। আজো শহরে গ্রীষ্মের দাবদাহে শীতলাদেবীকে তুষ্ট রাখার জন্য ষোড়শোপচারে পূজিতা হন দেবী। সাধারণত লোকসমাজে বসন্ত, হাম প্রভৃতি স্ংক্রামক ব্যাধির কবলে যাতে না পড়তে হয় তাই এই দেবীকে তুষ্ট রাখা হয়। বৌদ্ধতন্ত্রে দেবী হারিতী আর আমাদের শীতলা নাকি এক দেবী। পুরাণে ইনি যক্ষিণী। নেপালের বুদ্ধমন্দিরে হারিতীদেবীর পূজা হয়। ইনি‌ই দক্ষিণভারতের শীতলাম্মা। এইভাবে দেবী নানা রূপে আমাদের ঘরের একজন হয়ে উঠেছেন।
সারাবছর বোধহয় তাঁকে অর্থাত মাদুর্গাকে খুশি করার চেষ্টায় আমরা নানাবিধ ব্রতের ব্রতী হ‌ই। শাস্ত্রে আছে ” সৈষা প্রসন্না বরদা নৃণাং ভবতি মুক্তয়ে”
অর্থাত তিনি প্রসন্না হলে মানুষকে মুক্তিলাভের জন্য অভীষ্ট বর প্রদান করেন। পন্ডিতেরা বুঝি এই নারীশক্তিকেই বলেছেন বেদ । আর ইনি‌ই বেদের মহিমাময়ী শক্তি যিনি অম্ভৃণ ঋষির কন্যা বাকের মুখ দিয়ে প্রকাশ করেছিলেন নিজের অপার মহিমা। ইনি‌ই সেই আদি অনাদি শক্তি যিনি চন্ডীর মধ্যে দিয়ে ঘোষণা করেছিলেন -“একৈ বাহং জগত্‌তত্র দ্বিতীয়া কা মমা পরা”
অর্থাত এ জগতে আমি ছাড়া দ্বিতীয় নারী কে আছে?
পুরাণে আমরা পাই যিনি দুর্গম নামক অসুরকে বধ করেছিলেন তিনি‌ই দুর্গা।
তাই সবশেষে বলি শুধু শরতকালে কেন আমরা বারোমাসেই মাদুর্গার পুজো করি । নারীর হাত ধরেই বিপদে-আপদে মুক্তি খুঁজি আমরা। আমাদের শয়নে, স্বপনে জাগরণে এক নারী শক্তি মাদুর্গা যাঁর নাম। সারাবছর যাতে তিনি আমাদের আগলে রাখেন তার চেষ্টাই তো করি আমরা। কারণ দুর্গা নামের রহস্যেই আছে
দুর্গা = দুর্গ + আ = দ্+উ+র্+গ্ +আ
দ এর অর্থ দৈত্যনাশ
উ এর অর্থ বিঘ্ননাশ
র এর অর্থ রোগনাশ,
গ এর অর্থ পাপনাশ এবং
আ এর অর্থ ভয় ও শত্রুবিনাশ ।
লৌকিক উপাখ্যানগুলি মানুষের মনে বিশ্বাস আনানোর জন্য। লোকমুখে প্রচারিত হতে হতে দেবীমাহাত্ম্য আজ খ্যাতির শিখরে। আর স্বীয় ব্র্যান্ড সৃষ্টিতেও দেবী নিজেই বহুদূর এগিয়ে রয়েছেন। ঋগ্বেদের দেবীসুক্ততেই তো তা বর্ণিত।

অহং রুদ্রের্ভিবসুভিশ্চরাম্যহমাদিত্যৈরুতবিশ্বদেবৈ
অহং মিত্রাবরুণোভাবিভর্ম্যহমিদ্রাগ্নী অহমশ্বিনোভা…

অর্থাত আমি‌ই সমগ্র জগতের ঈশ্বরী, সকলকে ধারণ করি। আমি‌ই সর্বভূতে জীবরূপে প্রবিষ্টা । আমাকেই সুর, নর ও মুণিগণ বিবিধরূপে আরাধনা করে।

এমন মাহাত্ম্য যাঁর তাঁকে কি করে অস্বীকার করি আমরা? তাই তো নানা অছিলায় সারাটিবছর ধরে তাঁর পূজায় আমাদের খামতি নেই। তিনি যে সেই নারীশক্তি, আমাদের ঘরের কন্যাশ্রী, দেবী দুর্গা যাঁর নাম।

তথ্যসূত্রঃ
মহিষাসুরমর্দ্দিণি দুর্গা: স্বামী প্রজ্ঞানানন্দ, দুর্গা রূপে রূপান্তরে: পূর্বা সেনগুপ্ত , মেয়েদের ব্রতকথা: প্রচলিত

Advertisements
This entry was posted in Uncategorized. Bookmark the permalink.

5 Responses to ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়

  1. পিয়ালী গাঙ্গুলি বলেছেন:

    কতকিছু জানতে পারি তোমার লেখা পড়ে। খুব ভালো লাগে। আমার ছেলেটা নিজে পড়তে শিখলে ওকে পড়াব। ও এসব খুব ভালোবাসে।

  2. drsonalibmukherjee বলেছেন:

    খুব ভাল লাগল।
    যদি মেয়েরা সত্যিই সব ঘরে জোরের সংগে বলতে পারতো , অহম দুর্গে

  3. anindita mandal বলেছেন:

    অত্যন্ত সমৃদ্ধ হলাম !

  4. অজ্ঞাত বলেছেন:

    Khub bhalo laglo,anek kichhu janlam..

  5. জয়া চৌধুরী বলেছেন:

    darun lekhar bishoy indiradi. tomar genre tao khub unique. vagyis tomar lekha porte pai, tai eto somriddho hoi. amar o ekta kotha bolte icche korche. গুয়াদালুপে নামে মেক্সিকোর এক দেবী আছেন তিনি আদতে আমাদের দবী কন্যাকুমারী মানে দুর্গা ই

মন্তব্য করুন

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  পরিবর্তন )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  পরিবর্তন )

Connecting to %s